পানির অভাব দূর করার দোয়া

পানির অভাব দূর করার দোয়া

পানির অভাব (খরা, বৃষ্টি না হওয়া) দূর করার জন্য ইসলামে বিশেষ দোয়া ও নামাজ আছে, যাকে বলা হয় সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টির নামাজ)। এটি নবীজি শিখিয়েছেন।


বৃষ্টি ও পানির জন্য দোয়া

১) সরাসরি বৃষ্টির দোয়া

“আল্লাহুম্মা আগিসনা”

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন।


আরেকটি দোয়া:

“আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান, মারীআন, নাফিআন, গাইরা দাররিন।”

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে উপকারী, কল্যাণকর, ক্ষতিহীন বৃষ্টি দান করুন।

এই দোয়াগুলো শিখিয়েছেন Prophet Muhammad।


সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টির নামাজ)

দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায়

খুতবা দেওয়া

সবাই মিলে কান্নাকাটি ও তওবা করা

আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করা

হাদিসে এসেছে—নবীজি খরার সময় এভাবে দোয়া করতেন, তখন আল্লাহ বৃষ্টি দিতেন।


অতিরিক্ত আমল

বেশি বেশি ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ)

গুনাহ থেকে তওবা

সদকা দেওয়া

জুলুম ও অন্যায় বন্ধ করা

Quran এ উল্লেখ আছে—ইস্তিগফার করলে আল্লাহ আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন (সূরা নূহ ৭১:১০–১১)।


গুরুত্বপূর্ণ কথা

পানির অভাব অনেক সময় আমাদের আমলের কারণে পরীক্ষা হিসেবে আসে। তাই শুধু দোয়া নয়—তওবা, ঐক্য ও নেক কাজও জরুরি।


সালাতুল ইস্তিসকার সম্পূর্ণ নিয়ম ধাপে ধাপে

সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টির নামাজ) — সম্পূর্ণ নিয়ম ধাপে ধাপে

সালাতুল ইস্তিসকা হলো খরা বা পানির অভাব হলে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনার বিশেষ নামাজ। এটি সুন্নাহ, যা শিখিয়েছেন Prophet Muhammad।


প্রস্তুতি পর্ব

১) তওবা ও ইস্তিগফার

কয়েকদিন আগে থেকেই বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া

গুনাহ থেকে তওবা

মানুষের হক আদায় করা


২) সদকা ও অন্যায় বর্জন

গরিবদের সাহায্য করা

ঝগড়া-বিবাদ, জুলুম বন্ধ করা


৩) সাধারণ পোশাকে মাঠে সমবেত হওয়া

জুমার নামাজের মতো প্রস্তুতি

খোলা মাঠে (ঈদের নামাজের মতো) আদায় করা উত্তম


নামাজ আদায়ের নিয়ম

ধাপ–১: দুই রাকাত নামাজ

আজান ও ইকামত ছাড়া

ঈদের নামাজের মতো (অনেক আলেমের মতে অতিরিক্ত তাকবিরসহ)

সাধারণ দুই রাকাত নফল হিসেবেও আদায় করা যায়


ধাপ–২: খুতবা

নামাজের পরে খুতবা দেওয়া

তওবা, তাকওয়া ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব বর্ণনা করা

বৃষ্টির জন্য আন্তরিক দোয়া করা


দোয়ার বিশেষ পদ্ধতি

১) কিবলার দিকে মুখ করা

২) দুই হাত উঁচু করে দোয়া করা

৩) চাদর বা রুমাল উল্টো করে নেওয়া

(দুরবস্থা পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে)

নবীজি দোয়ার সময় এত উঁচু করে হাত তুলতেন যে বগলের সাদা অংশ দেখা যেত—এভাবে আন্তরিকভাবে দোয়া করতেন।

দোয়ার উদাহরণ

“আল্লাহুম্মা আগিসনা”

“আল্লাহুম্মাসকিনা গাইসান মুগিসান…”

Quran এ উল্লেখ আছে—ইস্তিগফার করলে আল্লাহ আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন (সূরা নূহ ৭১:১০–১১)।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নারী, শিশু ও বৃদ্ধদেরও সাথে নেওয়া উত্তম

বিনয়, কান্না ও অনুতাপের পরিবেশ সৃষ্টি করা

শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—হৃদয় থেকে পরিবর্তন আনা


সংক্ষেপে

তওবা + ইস্তিগফার + ২ রাকাত নামাজ + খুতবা + সম্মিলিত দোয়া = সালাতুল ইস্তিসকা।