গায়েবি সাহায্য ও বিপদমুক্তির জন্য দোয়া
গায়েবী সাহায্য পাওয়ার দোয়া
গায়েবি সাহায্য পাওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকর আমল হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে খাস নিয়তে দুয়া করা, বিশেষ করে হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল এবং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পাঠ করা। এছাড়া, সালাত, ধৈর্য ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যায়।
গায়েবি সাহায্য ও বিপদমুক্তির জন্য কার্যকরী কিছু দুয়া:
১. হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকীল: (অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মসম্পাদক)।
২. লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: (অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারও এগিয়ে যাওয়ার বা ফিরে আসার ক্ষমতা নেই)।
৩. ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মাজুরনি ফি মুসিবাতি: (কঠিন মুসিবতে ধৈর্যের সাথে এই দুয়াটি পড়া)।
৪. হাসবিয়া আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওক্কালতু ওয়া-হুয়া রব্বুল আরশিল আজীম: (আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এই দুয়াটি পড়া)।
সাহায্য লাভের বিশেষ শর্ত:
তাকওয়া অবলম্বন করা: আল্লাহকে ভয় করলে তিনি গায়েবি সাহায্যের পথ খুলে দেন।
ধৈর্য ও সালাত: ধৈর্য ধারণ করা ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া।
একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা: পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে দুয়া করা।
“গায়েবী সাহায্য” বলতে আমরা বুঝি—মানুষের সাধ্যের বাইরে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য। কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়া আছে, যেগুলো পড়লে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার আশা করা যায়। তবে মনে রাখবে, সাহায্য আল্লাহ তাঁর হিকমত অনুযায়ী দেন।
গায়েবী সাহায্য পাওয়ার দোয়া
১) বিপদে আল্লাহই যথেষ্ট
“হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল আরশিল আযীম।”
অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁর উপর ভরসা করি, তিনি মহান আরশের রব।
উৎস: Quran
২) কষ্ট ও দুশ্চিন্তায়
“লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ-জালিমীন।”
(হযরত ইউনুস (আ.)-এর দোয়া)
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি ভুল করেছি।
এই দোয়া বিপদ থেকে মুক্তির জন্য খুবই শক্তিশালী বলে বর্ণিত।
৩) কঠিন সময়ে
“আল্লাহুম্মা রহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইন।”
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার রহমতের আশা করি, এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দেবেন না।
৪) সাহস ও দৃঢ়তার জন্য
“রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরান ওয়া সাব্বিত আকদামানা…”
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পদক্ষেপ দৃঢ় রাখুন।
উৎস: Quran
গায়েবী সাহায্য পাওয়ার আমল
৫ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক রাখা
তওবা ও ইস্তিগফার বেশি করা
হালাল উপার্জন
সেজদায় বেশি দোয়া
রাতে তাহাজ্জুদ পড়া
কারও হক নষ্ট না করা
বিশেষ করে নবীজি Prophet Muhammad কঠিন সময়ে বেশি দোয়া ও সালাত আদায় করতেন।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
গায়েবী সাহায্য অনেক সময় হঠাৎ সমস্যা দূর হওয়া, অপ্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া, অথবা মন শক্ত হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আসে। তাই ধৈর্য ও তাওয়াক্কুল সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
অগণিত নেকির ভান্ডার
অগণিত নেকি বা সওয়াব অর্জনের জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অথচ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল রয়েছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে "নেকির ভান্ডার" বা রত্নভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে তাসবিহ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, সাদকায়ে জারিয়া, মানুষকে দ্বীনের পথে ডাকা এবং নিয়মিত সুন্নাত আমলসমূহ পালন করা।
অগণিত নেকি অর্জনের কিছু সহজ উপায়:
তাসবিহ পাঠ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম পাঠ করা, যা মিজানের পাল্লা ভারী করে।
সাদকায়ে জারিয়া: দীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া, কুরআন শরিফ বিতরণ বা মসজিদ নির্মাণ, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
কুরআন তিলাওয়াত: নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা।
উত্তম চরিত্র ও সালাম: মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা এবং বেশি বেশি সালাম দেওয়া।
এই আমলগুলো অভ্যাসে পরিণত করলে আমলনামায় অগণিত নেকি জমা হতে থাকে, যা কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য ভাণ্ডারস্বরূপ হবে।
thistimebd Bangladesh Live online newsportal, education, Lifestyle, Health, Photography, gif image etc.
Make your own name or company name website | contact: thistimebd24@gmail.com
Copyright © 2020-2026 News Portal in Bangladesh - THISTIMEBD.COM. ALL Rights Reserved.