রোজা কখন ও কীভাবে ফরজ হলো?

রোজা কখন ও কীভাবে ফরজ হলো?

১) রোজার ইতিহাস

রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নয়—আগের নবীদের উম্মতের উপরও রোজা ফরজ ছিল।

Quran এ বলা হয়েছে (সূরা বাকারা ২:১৮৩) —

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর…”

অর্থাৎ, রোজা একটি প্রাচীন ইবাদত।


২) ইসলামে রমজানের রোজা কবে ফরজ হয়?

রমজানের রোজা হিজরি ২য় সনে, শাবান মাসে ফরজ করা হয়।

অর্থাৎ, নবীজি Prophet Muhammad মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর রোজার হুকুম পান।


৩) কীভাবে ফরজ হলো?

প্রথমে মুসলমানরা ইচ্ছা করলে রোজা রাখত, না রাখলে একজন গরিবকে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ ছিল।

পরে পূর্ণ এক মাস রমজানের রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়।


ধীরে ধীরে নিয়ম নির্ধারণ হয়:

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা

অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য ছাড় রাখা

ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করলে কাফফারার বিধান


৪) রোজার উদ্দেশ্য কী?

কুরআনে বলা হয়েছে—

রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন (আল্লাহভীতি ও আত্মসংযম)।


সংক্ষেপে

রোজা আগের জাতিদের উপরও ছিল

রমজানের রোজা ফরজ হয় হিজরি ২য় সনে

ধাপে ধাপে পূর্ণ এক মাসের রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়


রোজা ফরজ হওয়ার পেছনের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো

রমজানের রোজা কিভাবে মুসলমানদের জন্য ফরজ হলো—এর পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো:


১) ইসলামের প্রাথমিক সময়

নবীজি Prophet Muhammad মক্কায় প্রথম ৩ বছর ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন।

এই সময়ে রমজানের রোজা ফরজ হয়নি। মূলত ইসলাম মানুষের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার উপর জোর দিচ্ছিল।


২) মদিনায় হিজরতের পর

নবীজি হিজরতের পর মদিনায় নতুন মুসলিম সম্প্রদায় গড়তে শুরু করলেন।

মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় বিধান প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন ছিল—যেমন নামাজ, যাকাত এবং রোজা।


৩) রোজা ফরজ হওয়া (হিজরি ২য় সন)

হিজরতের দ্বিতীয় বছরে আল্লাহ Prophet Muhammad কে রমজানের রোজা ফরজ করার নির্দেশ দেন।

এই ফরজ হুকুমের মাধ্যমে রমজানের পুরো মাস রোজা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।


৪) ফরজ করার নিয়ম নির্ধারণ

সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা।

অসুস্থ বা ভ্রমণকারীর জন্য রোজা বাদ দেওয়া অনুমোদিত।

যে ব্যক্তি রোজা ভঙ্গ করত, তার জন্য কাফফারা বা দণ্ড নির্ধারিত।


৫) উদ্দেশ্য

আল্লাহ Quran (সূরা বাকারা ২:১৮৩) এ বলেছেন—রোজা ফরজ করা হয়েছে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জনের জন্য।

অর্থাৎ শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়, আত্মসংযম, ধৈর্য, নৈতিকতা ও সহমর্মিতা শেখাতেই মূল লক্ষ্য।


সংক্ষেপে ধাপসমূহ

মক্কায় ইসলাম প্রচারণা: রোজা ফরজ নয়

মদিনায় সম্প্রদায় গঠন: নতুন বিধান প্রয়োজন

হিজরি ২য় সালে রমজানের রোজা ফরজ করা হলো

নিয়মাবলী ও কফারার বিধান নির্ধারণ

মূল উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন ও আত্মসংযম শেখানো