লাইফ ইন্সুরেন্স করার আগে যে ৭টি বিষয় জানতেই হবে
লাইফ ইন্সুরেন্স নেওয়ার আগে, পলিসির ধরণ, কভারেজের পরিমাণ, প্রিমিয়াম পরিশোধের ক্ষমতা, কোম্পানির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট শর্তাবলী বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাই সঠিক পলিসি নির্বাচন করা অপরিহার্য।
জীবন বীমা নেওয়ার আগে আপনার অবশ্যই ৭টি জিনিস জানা উচিত:
১. সঠিক ধরণের বীমা নির্বাচন করা (মেয়াদী বনাম স্থায়ী): মেয়াদী বীমা সাধারণত কম প্রিমিয়ামে বেশি কভারেজ প্রদান করে, যা আপনার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে ভালো। স্থায়ী বা এনডাউমেন্ট পরিকল্পনায় সঞ্চয় এবং বীমা উভয়ই থাকে, তবে প্রিমিয়াম বেশি।
২. বীমা কভারেজের পরিমাণ (বীমাকৃত রাশি): আপনার বার্ষিক আয়ের কমপক্ষে ১০-১৫ গুণ কভারেজ নেওয়া উচিত। আপনার ঋণের বোঝা, ভবিষ্যতের পারিবারিক ব্যয় এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে কভারেজ নির্ধারণ করুন।
৩. প্রিমিয়াম পরিশোধের ক্ষমতা: পলিসিটি দীর্ঘমেয়াদী, তাই নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন।
৪. দাবি নিষ্পত্তির অনুপাত: উচ্চ দাবি নিষ্পত্তির অনুপাত সহ একটি কোম্পানি নির্বাচন করুন। পলিসিধারকদের তাদের দাবি পরিশোধ করার ক্ষমতা তাদের স্বচ্ছতার লক্ষণ।
৫. পলিসির শর্তাবলী এবং ব্যতিক্রম: পলিসিটি কী কী কভার করবে এবং কোন ক্ষেত্রে দাবি পরিশোধ করা হবে না তা মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
৬. রাইডার: মূল পলিসিতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, স্থায়ী অক্ষমতা, বা গুরুতর অসুস্থতার মতো রাইডার যোগ করে আপনি কভারেজ বাড়াতে পারেন কিনা তা দেখুন।
৭. মনোনীত ব্যক্তি বা সুবিধাভোগীর পদবী: পলিসিতে সঠিক মনোনীত ব্যক্তি বা সুবিধাভোগীর নাম উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আপনার পরিবার সহজেই দাবি করতে পারে ।
টিপস: পলিসি কেনার আগে, বিভিন্ন কোম্পানির পলিসি তুলনা করুন এবং সত্য তথ্য সহ ফর্মটি পূরণ করুন।
সংক্ষেপে--
জীবন বীমা নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার আর্থিক নিরাপত্তা এবং পরিবারের ভবিষ্যতের উপর বড় প্রভাব ফেলে। এখানে ৭টি মূল বিষয় ব্যাখ্যা করা হল:
১. জীবন বীমার প্রকারভেদ
মূলত দুই ধরণের জীবন বীমা রয়েছে:
টার্ম লাইফ ইন্সুরেন্স: একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কভারেজ। সাধারণত সস্তা এবং আরও বেশি কভারেজ পাওয়া যায়।
হোল/লাভস/এন্ডাওমেন্ট লাইফ ইন্সুরেন্স: আজীবন কভারেজ এবং একটি সঞ্চয় উপাদান রয়েছে। প্রিমিয়াম বেশি, তবে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে।
আপনার জন্য কোন ধরণের পলিসি সঠিক তা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২. কভারেজের পরিমাণ
আপনার পরিবারের মাসিক ব্যয়, ঋণ, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যয়, বাড়ি বা ঋণ পরিশোধের মতো দায়ের উপর ভিত্তি করে আপনাকে কভারেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একটি সাধারণ নিয়ম: আপনার বার্ষিক আয়ের ১০-১৫ গুণ কভারেজ উপযুক্ত হতে পারে।
৩. প্রিমিয়ামের ধরণ এবং পরিমাণ
আপনার বয়স, স্বাস্থ্য, জীবনধারা এবং পলিসির মেয়াদ অনুসারে প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়।
নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার জন্য আপনার আর্থিক ক্ষমতা বিবেচনা করুন।
খুব সস্তা প্রিমিয়ামের চাপে আপনার কখনই অতিরিক্ত কভারেজ নেওয়া উচিত নয়।
৪. শর্তাবলী
আপনার মৃত্যু বা রোগের অবস্থা ভালোভাবে বোঝা উচিত।
আপনার জানা উচিত কোন পরিস্থিতিতে কভারেজ কার্যকর হবে এবং কোন ক্ষেত্রে এটি বাতিল করা যেতে পারে।
বর্জন ধারা এবং অপেক্ষার সময়কাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন
অনেক পলিসির স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা জীবনযাত্রার ঝুঁকি (ধূমপান, অ্যালকোহল) প্রিমিয়ামকে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. বীমা কোম্পানি এবং পলিসির খ্যাতি
কোম্পানীর দাবি নিষ্পত্তির হার এবং গ্রাহক পরিষেবা পরীক্ষা করুন।
একটি বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিষ্ঠান বেছে নিন।
অনলাইন পর্যালোচনা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা দেখা সহায়ক।
৭. পলিসি পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিবর্তনের সুযোগ
আপনার জীবনধারা পরিবর্তনের সাথে সাথে কভারেজ আপডেট করা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কভারেজ নেওয়া যেতে পারে কিনা বা কিছু হ্রাস করা যেতে পারে কিনা তা জেনে নিন।
সারাংশ:
জীবন বীমা কেবল প্রিমিয়াম প্রদানের একটি কাগজ নয়; এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। অতএব, আপনাকে এই ৭টি দিক আগে থেকেই পরীক্ষা করে নিতে হবে: ধরণ, কভারেজ, প্রিমিয়াম, শর্ত, স্বাস্থ্য, কোম্পানি এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনশীলতা।